পুষ্পরানী


পুষ্পরানী
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস


আনন্দ কীর্তনিয়ার সঙ্গে ছিলো প্রেম। সূর্যপূজার নাড়ু আর ধূপের গন্ধঅলা মরসুমে আনন্দ কীর্তনিয়া আসতো পাড়ায়। পদাবলী গেয়ে চলেও যেতেন। একবার শীতকালে, বড় বড় সব বাস যতদূর যায়– কীর্তনিয়া, শেষবার, তারও চেয়ে বহুদূর গেলেন চলে। হয়তো বৃন্দাবনে, যেখানে যাবার কথা প্রায়শই গানেগানে বলতেন। পুষ্পরানী বিধবা মায়ের সঙ্গে কাঁথা ভাগাভাগি ক’রে তখনও শুয়ে। এবং শুয়ে থাকলো সেভাবে একশো বছর। একশো বছরে কাঁথাটি ছেড়েনি, আবছা বেগুনি রং জামের মত সে শীতও কাটেনি পুষ্পরানীর।
তাই আজ যদিও বর্ষাকাল, পুষ্পরানীর প্রয়াণদিবসে দেখা যায়– বৃষ্টিপতনের ঘ্রাণ সরিয়ে চারিপাশ শিশিরপাতের শব্দ দিয়ে ভরা।
কাঁথার ভিতরে মা’ও নেই। যথাসময়ে
চলে গেছে সে।
স্বামীও ছেড়েছিলো সেই কোনদিন। শীতকাল, পদাবলী আর আনন্দদোষে।

মন্তব্যসমূহ

  1. এই কবিতা কেউ পড়বে না। কারণ এই কবিতার নিজস্ব পতাকা আছে। পতাকা বাহক হওয়ার ইচ্ছে নেই।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. ধন্যবাদ। কবিতার নিমগ্ন পাঠক চিরকালই কম। একজন পাঠক পড়লেও ভালো লাগে।

      মুছুন
  2. যত দিন যাচ্ছে জ্যোতির বলয় স্পষ্ট হচ্ছে। আমার আশিস তো চিরকালীন...

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাথরের পোকা | সুপর্ণা মণ্ডল

যখন হারিয়ে যাই | সুপর্ণা মণ্ডল

মায়া