শিল্পকলা কাকে বলে | রঘুবীর সহায়


শিল্পকলা কাকে বলে

রঘুবীর সহায়

অনুবাদ: সুপর্ণা মণ্ডল


একটা শরীর কতটা দুঃখ ধারণ করতে পারে?
সেই শরীর যার ভিতর জুড়ে শুধু শরীরের ভাঙন
মনের কত ক্রমাগত কুন্ঠার অর্থ বুঝে
তাদের দ্বারা অর্থবান হওয়া সম্ভব?

অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার কথা তুমি ব'লো না
অদ্বিতীয় মানুষরাই শুধু এমন হতে পারে
অদ্বিতীয় মানে যারা চার বেলা আনন্দে মেতে থাকে
কেবল কখনও চমকে উঠে
নিজেদের কুয়ো থেকে বাইরে মুখ বাড়িয়ে একটু দেখে নেয়
সেই কুয়ো যাকে আমরা মিনার বলে থাকি

সব ব‍্যক্তি জন্ম থেকেই অদ্বিতীয় হয়
কিন্তু জন্মের পর জীবনে কত জনের কাছ থেকে এই
অদ্বিতীয় হওয়ার অধিকার
কেড়ে নেওয়া হয়
আর অদ্বিতীয় তাদেরকেই বলা হয়
যারা জনজীবন থেকে অজ্ঞাত থেকেই
সুরক্ষিত থাকে

প্রত‍্যেক মানুষই অদ্বিতীয়
আর তার অদ্বিতীয় হওয়ার অধিকার
কেড়ে নিয়ে যারা নিজেদের অদ্বিতীয় বলে
তাদের রচনা হোক বা তাদের ভাবনা
দুঃখের রসভরা চাটনিতে মাখিয়ে
যা পরিবেশন করা হয় তাকেই শিল্পকলা বলে!

এই দেহ মন আত্মা ছাড়া শিল্প কী
বাকি থাকল সমাজ
যাকে আমরা জেনে বুঝে
অন‍্যদের বলি, তারা আমাদের বলে

যারা প্রত‍্যেক দিন চাকায় পেষাই করা দিয়ে শুরু করে
আর ঘুমাতে যায়
কারণ এই ব‍্যবস্থা তাদের মেরে ফেলতে চায় না

তারা যে সমস্যাগুলো জেনেও
তার বর্ণনা করে না
সেগুলোই তাদের শিল্প
নূন্যতম শিল্প ওটাই
আর বাকি যা আছে তার মধ্যেও সবচেয়ে বেশি শিল্প তাই

শিল্প কি সমাজ বদল করতে পারে?
না, যেখানে বেশি শিল্প হবে, পরিবর্তন হবে না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পাথরের পোকা | সুপর্ণা মণ্ডল

যখন হারিয়ে যাই | সুপর্ণা মণ্ডল

মায়া